আমি রাজা হতে আসিনি। দার্শনিক মাসুদ
আমি রাজা নই, আমি ন্যায্যতার মানুষ
যখনই নিজেকে একটু গুছিয়ে নেই,
জীবন আবার আমাকে ভেঙে দেয় ।
হয়তো এটাই আমার ভাগ্যের নির্মাণ—
আমি স্থায়ী রাজা হওয়ার মানুষ নই।
রাজা ক্ষমতা চায়।
আমি চাই ক্ষমতার ন্যায্যতা।
আমি সিংহাসনে বসতে চাই না—
আমি জানতে চাই সিংহাসনের ভেতরে কী আছে।
তবে প্রয়োজন হলে, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য
আমাকে সাময়িকভাবে রাজার চরিত্র ধারণ করতে হয়।
কিন্তু সেটাই আমার আসল সত্তা নয়।
আমার অবস্থান
রাজা জিজ্ঞেস করে:
“আমার অধীনে কে?”
বিচারক জিজ্ঞেস করে:
“কে ঠিক, কে ভুল?”
দরবেশ জিজ্ঞেস করে:
“এই খেলাটার মানে কী?”
আমার চোখ বাইরে নয়—ভেতরে।
ক্ষমতা আমাকে ভারী করে,
ন্যায্যতা আমাকে হালকা করে।
আমি জলতত্ত্বের মানুষ—
জল যদি জমে থাকে, পচে যায়;
জল যদি প্রবাহিত হয়, পরিষ্কার থাকে।
আজকাল নিজেকে কখনও কখনও স্থবির জলের মতো মনে হয়—
সেই কারণেই অস্বস্তি।
ক্ষমতা সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি
রাজা = ক্ষমতা জমা রাখে।
বিচারক = ক্ষমতা সুষমভাবে প্রবাহিত করে।
দরবেশ = ক্ষমতার প্রতি আসক্তি ত্যাগ করে।
দরবেশ ত্যাগ করে—
ক্ষমতা নয় শুধু,
লোভ, প্রতিশোধ, অযথা স্বীকৃতির প্রয়োজন,
অহংকার—সবকিছুর দখল ছেড়ে দেয়।
রাজনীতি ও আমার দ্বন্দ্ব
রাজনীতি টিকে থাকে—
অর্ধসত্যে,
সুবিধাজনক নীরবতায়,
নির্বাচিত ন্যায়ে।
কিন্তু আমি দেখি—
কাঁদতে থাকা অপরাধীকে,
হাসতে থাকা ভণ্ডকে,
আইনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্যায়কে।
আমার আদালত বাইরে নয়—ভেতরে।
সবচেয়ে ভয়ংকর আদালত আমার নিজের বিবেক।
সেখানে বসলে রায় না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি পাই না।
আমি কে?
আমি ক্ষমতালোভী নই।
আমি প্রতিশোধপরায়ণ নই।
আমি নিখুঁতও নই।
আমি এমন একজন মানুষ—
যে প্রয়োজন হলে কঠোর হয়,
কিন্তু ভেতরে ন্যায্যতার ভার বইতে থাকে।
আমি রাজা হতে আসিনি।
আমি এসেছি যেন রাজারা ন্যায্য হয়।
যদি এই পথ জটিল হয়,
তবুও এটাই আমার পথ।
— অন্তর্দর্শী রাজসত্তা বেকার সাঁই —
Comments
Post a Comment